পপকর্ন এর চাষাবাদ পদ্ধতি।
পপকর্ন এর চাষাবাদ পদ্ধতি।
সারা পৃথিবীতে পপকর্ন একটি জনপ্রিয় ও সুস্বাদু খাবার হিসেবে পরিচিত । আজ থেকে ৬০০০ বছর আগে পেরুতে প্রথম পপকর্ন আবিষ্কৃত হয় এবং পরবর্তীতে মেক্সিকো ও সেন্ট্রাল আমেরিকা হয়ে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে । উন্নত দেশের সিনেমা হল, সুপার শপ এবং সুপার মলের অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার হচ্ছে। পপকর্ন। বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে ঢাকার সিদ্দিক বাজার হলো পপকর্ন ভুট্রার পাইকারী মার্কেট ।
পপকর্ন কি ?
পপকর্ন হলো একধরনের ভুট্রা যা সামান্য তাপে অনেক বড় হয়ে ফুলে যায় এবং পপকর্নে পরিনত হয় ।
পপকর্নের স্বাস্থ্যগুণঃ পপকর্ন আমাদের সাস্থের জন্য খুবই উপকারী । নিয়মিত পপকর্ন খেলে নিম্নলিখিত উপকার পাওয়া যায়:
১। হজমে সহায়তা করে
২। ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রন করে
৩। কোলেষ্টেরল নিয়ন্ত্রন করে
৪। ক্যান্সার রোধ করে
৫। শরীরের ওজন কমা প্রতিরোধ করে
পপকর্নের চাষ পদ্ধতি:
জমির প্রকৃতিঃ বন্যামুক্ত উচু ও মাঝারি উচু দো-আশ মাটি পপকর্ন ভুট্রা চাষের জন্য উপযোগী।
বীজ বপনের সময়ঃ নভেম্বর-ডিসেম্বর বীজ বপনের উপযুক্ত সময়।
বীজ হারঃ একর প্রতি ৭-৮ কেজি।
বীজ বপন দূরত্বঃ লাইন থেকে লাইন ২৫ ইঞ্চি এবং গাছ থেকে গাছ ৮ ইঞ্চি।
সার ব্যবস্থাপনাঃ জমি তৈরির সময় পচা গোবর, ইউরিয়া, টি এস পি, এম পি, জিপসাম, দস্তা ও বোরন দিতে হবে এবং পরবর্তীতে ৩০-৩৫ দিন বয়সে ও ৬০-৬৫ দিন বয়সে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ ব্যাবস্থাপনাঃ আধিক ফলনের জন্য সঠিক সময়ে সেচ দেওয়া প্রয়োজন । প্রথম সেচ ৩০-৩৫ দিন বয়সে, দ্বিতীয় সেচ ৬০-৬৫ দিন বয়সে এবং তৃতীয় সেচ দানা শক্ত হওয়ার সময় দিতে হবে।
ফসল সংগ্রহঃ বীজ বপনের ১০০-১২০ দিন পর পপকর্ন সংগ্রহ করা যায়। পপকর্ন পরিপক্ক হলে জমি থেকে মোচা সংগ্রহ করে শুকনা ও উষ্ণ যায়গায় ১-২ সপ্তাহ ঝুলিয়ে রাখতে হবে যতক্ষণ না বীজের আদ্রতা ১৩-১৫% হয় । পরবর্তীতে দানা আলাদা করে সংগ্রহ করতে হবে ।
ফলনঃ উন্নত বীজে পপকর্ন একর প্রতি ফলন ৭০-৮০ মন।

0 Comments: