Headlines
Loading...
ক্যাপসিকাম_চাষের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা-কৃষি গল্প

ক্যাপসিকাম_চাষের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা-কৃষি গল্প

 #ক্যাপসিকাম_চাষের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা


ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ সারা বিশ্বেই একটি জনপ্রিয় সবজি। বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। 


জাতঃ

লাল ক্যাপসিকামের উন্নত জাতগুলি হল অদিতি, আশা, ক্যালিফোর্নিয়া ওয়ান্ডার ইত্যাদি। অ্যাঞ্জেল, গোল্ডেন ইয়েলো, অর্কা গৌরব হল উন্নতমানের হলুদ ক্যাপসিকামের জাত। এছাড়াও কালার-৮, আইএসপি-৭-এর মতো কমলা, নিকিতার মতো বেগুনি, কালার-৬-এর মতো সাদা ক্যাপসিকামের জাতের চাহিদা বাজারে ভালোই। 

ক্যাপসিকাম_চাষের পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা-কৃষি গল্প


মিষ্টি মরিচ লাগানোর নিয়ম কানুন:

ক্যাপসিয়াম বা মিষ্টি মরিচ চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি ভালো। মিষ্টি মরিচ খরা ও গোড়ায় পানি জমা কোনটিই সহ্য করতে পারে না। 


মিষ্টি মরিচের বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হলো অক্টোবর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত। প্রতি শতকের জন্য ১ গ্রাম বীজ দরকার হয়। বীজ সংগ্রহ এর পর ১/২ ঘন্টা রোদে শুকিয়ে ঠান্ডা করে ৮/১০ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে তারপর ৩ গ্রাম/১ লি পানিতে প্রোভ্যাক্স কিংবা ৫ গ্রাম/১ লি পানিতে ট্রাইকোডার্মা পাউডার গুলে সে পানি দিয়ে বীজে স্প্রে করে শোধন করে নিতে হবে৷ তারপর বীজতলায় ১০ সেমি. দূরে দূরে লাইন করে বীজ বুনতে হবে। বীজ বোনার ৭-১০ দিন পর চারা ৩-৪ পাতা হলে মাঝারি আকারের পলিথিন ব্যাগে চারা স্থানান্তর করতে হবে।৷ তবে আধুনিক কোকোডাস্ট পদ্ধতিতেও প্লাস্টিকের ট্রে তে মাটিবিহীন চারা তৈরি করতে পারেন৷ 


এরপর মূল জমি চাষ ও মই দিয়ে ভালভাবে তৈরি করে নিতে হবে। তারপর বেড তৈরি করে নিতে হবে। প্রতিটি বেড চওড়া ২.৫-৩ ফুট রাখতে হয়। দুই বেডের মাঝখানে নালা রাখা দরকার। 


সার ব্যবস্হাপনাঃ

প্রতি শতক জমির জন্য গোবর ৪০ কেজি,  ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ১.৪ কেজি, এমওপি ১ কেজি, দস্তা বা চিলেটেড জিংক ২০ গ্রাম, সলুবোরন ২০ গ্রাম এবং জিপসাম ৪৫০ গ্রাম  প্রয়োগ করতে হয়। এর মধ্যে অর্ধেক গোবর সার জমি তৈরির সময়, বাকি অর্ধেক গোবর সম্পূর্ণ টিএসপি, দস্তা, জিপসাম, ১/৩ ভাগ এমওপি এবং ১/৩ ভাগ ইউরিয়া চারা রোপণের গর্তে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি ২/৩ ভাগ ইউরিয়া এবং এমওপি পরবর্তীতে দুইভাগ করে চারা রোপণের ২৫ এবং ৫০ দিন পর প্রয়োগ করতে হবে। মালচিং শিট ব্যবহার করলে কিংবা না করলেও ফিউজেরিয়াম উইল্ট ও ব্যাকটেরিয়াল উইল্ট দমনে ছত্রাকনাশক ডিকোপ্রাইমার ব্যবহার যুগান্তকারী ফলাফল দিবে৷ 


সাধারণত ৩০ দিন বয়সের চারা তৈরি করা বেডে ১.৫ ফুট দূরে দূরে লাইনে রোপণ করা হয়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা অনেক কমে যায় বলে পলিথিনের ছাউনি দিয়ে রাখলে ভেতরের তাপমাত্রা বেশি থাকে।


যেহেতু, ক্যাপসিকাম খরা ও জলাবদ্ধতা কোনটাই সহ্য করতে পারে না, তাই প্রয়োজন অনুসারে জমিতে সেচ দিতে হবে। কোন গাছে ফল ধরা শুরু হলে খুঁটি দিতে হবে যাতে গাছ ফলের বারে হেলে না পড়ে। জমি সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।


ফসল তোলা:

মিষ্টি মরিচ সাধারণত পরিপক্ক সবুজ অবস্থায় লালচে হওয়ার আগেই মাঠ থেকে উঠানো যায়। সাধারণত সপ্তাহে একবার গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ফল সংগ্রহের পর ঠান্ডা অথচ ছায়াযুক্ত স্থানে বাজারজাতকরণের পূর্ব পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। তবে ফল সংগ্রহের সময় প্রতিটি ফলে সামান্য পরিমাণে বোটা রেখে দিতে হবে।


ক্যাপসিকাম চাষে ঝুঁকিঃ


ক্যাপসিকাম চাষে লাভ থাকলেও এতে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে এমনকি বাংলাদেশেও বেশিরভাগ ক্যাপসিকাম চাষ হয় গ্ৰীন হাউজের ভেতরে । কারণ পোকা মাকড় এবং ছত্রাক জাতীয় রোগের আক্রমণ এর ফলনে প্রচুর ব্যাঘাত সৃষ্টি করে । এছাড়া অতিরিক্ত বৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে গাছ খুব দ্রুত মারা যায় । এই কারণে উচু জমিতে ক্যাপসিকাম এর চাষ করা হয় ।


ক্যাপসিকাম এর বালাই ব্যবস্থাপনাঃ


ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচে কিছু পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ হয়ে থাকে। এগুলোর মধ্যে আছে জাবপোকা. থ্রিপস পোকা, লালমাকড়, এ্যানথ্রাকনোজ রোগ, ব্লাইট রোগ ইত্যাদি।

ক্যাপসিকাম চাষে,সাধারনত মরিচ চাষে যে সব কীটনাশক ব্যবহার করা হয় সেগুলো ব্যবহার এর পরামর্শ দেন। এছাড়া কীটনাশক হিসেবে জৈব বালাইনাশক যেমন নিমের তেল , নিমের পাতা সেদ্ধ করা পানি, রসুনের তেল ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া বাজারে প্রাপ্ত হলুদ ফাঁদ, নীল ফাঁদ,  সাকসেস-থ্রিপসের জন্য(অটো), কে মাইট (মাকড়নাশক), বায়োট্রিন(জাব পোকা, থ্রিপস এর জন্য), ম্যানকোজেব ও কার্বেন্ডাজিম গ্রুপের ঔষধ নিয়মিত বয়বহারে রোগ প্রতিরোধ করা যায়৷ 

ছত্রাক জাতীয় রোগের আক্রমণ বন্ধ করতে এলোভেরার পাতার রস, বেকিং সোডা, এবং কাঠের ছাই ও ব্যবহার করা যায়। রোগ, পোকামাকড় এর সংক্রমণ বেশি হলে ইমিডাক্লোরোপিড, এবামেকটিন গ্রুপের অজৈব বালাইনাশকও ব্যবহার করতে পারেন৷ 


মিষ্টি মরিচের পুষ্টিমান ও ব্যবহার:

পুষ্টিমানের দিক থেকে মিষ্টি মরিচ একটি অত্যন্ত মূল্যবান সবজি। প্রচুর পরিমানে ভিটামিন ’সি’ থাকার কারণে এবং অতি সহজেই টবে চাষ করা যায় বলে দেশের জনসাধারণকে মিষ্টি মরিচ খাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে।


কৃষি গল্প

0 Comments: